আকার যতটা কমেছে, নাকি আকার যতটা কমাতে হবে?
সংকোচনের হার বলতে সাধারণত দুটি আলাদা প্রশ্ন বোঝানো হয়। হয়তো আপনার কাছে ইতিমধ্যে ছোট করা একটি ফাইল আছে এবং আপনি জানতে চান, আসলে কতটা আকার কমেছে। আবার হয়তো আপনি শুধু মূল আকার ও একটি সীমা জানেন, যেমন কোনো আপলোড ফর্মে দেওয়া সীমা, এবং জানতে চান ফাইলটি কতটা ছোট করতে হবে। এই দুই পরিস্থিতির জন্য ক্যালকুলেটরে আলাদা মোড রয়েছে।
- আকার যতটা কমেছে: মূল আকার ও মেপে পাওয়া ফলাফলের আকার লিখুন। কত বাইট কমেছে, শতাংশে আকারের সাশ্রয়, শতাংশে অবশিষ্ট আকার এবং মূল ফাইল ও ফলাফলের অনুপাত পাবেন। এই মোডে লক্ষ্য মান দেওয়া ঐচ্ছিক।
- আকার যতটা কমাতে হবে: শুধু মূল আকার ও সীমা লিখুন। ফলাফলের ঘরগুলো লুকানো থাকে, কারণ এই হিসাবের জন্য সংকুচিত ফাইলের প্রয়োজন নেই। আকার কত শতাংশ কমাতে হবে এবং কত বাইট বাদ দিতে হবে, তা পাবেন। এখানে লক্ষ্য মান দেওয়া বাধ্যতামূলক।
একক ও সংখ্যা সঠিকভাবে লিখুন
প্রতিটি ঘরের জন্য আলাদা একক বেছে নেওয়া যায়। তাই মানগুলো আপনার কাছে যেভাবে আছে সেভাবেই লিখতে পারেন, যেমন মূল আকার MB-এ এবং ফলাফল MiB-এ। তুলনার আগে ক্যালকুলেটর দুটি মানই বাইটে রূপান্তর করে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ 1 MB হলো ১০,০০,০০০ বাইট, আর 1 MiB হলো ১০,৪৮,৫৭৬ বাইট। একক বাদ দিয়ে শুধু সংখ্যা ভাগ করলে ভুল ফল আসবে। 10 MB-এর তুলনায় 4 MiB হলে আকারের সাশ্রয় 60 % নয়, প্রায় ৫৮.০৬ %, আর অনুপাত প্রায় ২.৩৮:1। কারণ, 4 MiB হলো ৪১,৯৪,৩০৪ বাইট। এককগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক জানতে ফাইলের আকারের একক তুলনা করার ক্যালকুলেটর দেখুন।
মূল ফাইলের আকার, ফলাফলের আকার ও নির্ধারিত সীমা—সব আকারই শূন্যের চেয়ে বড় হতে হবে এবং একক রূপান্তরের পর পূর্ণসংখ্যক বাইট হতে হবে। ফলাফলের আকার শূন্য হলে ক্যালকুলেটর তা গ্রহণ করে না। দশমিকের জন্য বিন্দু ব্যবহার করুন; কমা শুধু অঙ্কের গ্রুপ আলাদা করে। তাই `১.০০০` মানে এক। এক হাজার লিখতে `১০০০` বা `১,০০০` ব্যবহার করুন। অঙ্কের মাঝে ফাঁক বা সংখ্যার ঘরে একক লিখবেন না। `1e3`-এর মতো সূচকীয় রূপের ইনপুট গ্রহণ করা হয় না।
আকারের সাশ্রয়, অবশিষ্ট আকার ও অনুপাতের পার্থক্য বুঝুন
একই দুটি আকার থেকে বিভিন্ন পরিমাপক হিসাব করা যায়। প্রতিটি আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেয়। তাই শতাংশটি কোন আকারের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে এবং কোন দিক থেকে হিসাব করা হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
- শতাংশে আকারের সাশ্রয় = (মূল ফাইল − ফলাফল) ÷ মূল ফাইল × 100। মূল আকারের কত অংশ বাদ গেছে, এটি তা দেখায়।
- শতাংশে অবশিষ্ট আকার = ফলাফল ÷ মূল ফাইল × 100। মূল আকারের কতটা অবশিষ্ট আছে, এটি তা দেখায়। আকারের সাশ্রয় ও অবশিষ্ট আকার যোগ করলে সব সময় 100 % হয়।
- অনুপাত = মূল ফাইল ÷ ফলাফল, যা x:1 হিসেবে লেখা হয়। মূল ফাইল ফলাফলের চেয়ে কত গুণ বড়, এটি তা দেখায়।
প্রথম উদাহরণে 6 MB, অর্থাৎ ৬০,০০,০০০ বাইট কমেছে। মূল ফাইলের 10 MB-এর হিসাবে এটি 60 % আকারের সাশ্রয়। অবশিষ্ট 4 MB হলো মূল আকারের 40 %। 10 ÷ 4 = ২.৫ অনুপাতটি ২.৫:1 হিসেবে লেখা হয়। দেখানো মানগুলো রাউন্ড করা, তবে হিসাব করা হয় বাইটের সঠিক সংখ্যা দিয়ে।
„60 শতাংশ সংকোচন“ বলতে কী বোঝায়?
শুধু এই কথাটি বললে তার অর্থ অস্পষ্ট থাকে। কেউ বোঝান যে আকার 60 % কমেছে। আবার কেউ বোঝান যে ফাইলটির আকার এখন মূল আকারের 60 %। কিন্তু 10 MB → 4 MB এবং 10 MB → 6 MB-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য আছে। তাই ক্যালকুলেটর আকারের সাশ্রয় ও অবশিষ্ট আকার আলাদাভাবে দেখায়। কেউ শুধু সংকোচনের হার জানালে, তার অর্থ জিজ্ঞেস করুন অথবা দুটি আকার দিয়ে নিজেই হিসাব করে দেখুন। অনুপাতের ক্ষেত্রেও একই বিভ্রান্তি হতে পারে: কিছু প্রোগ্রাম ফলাফলকে মূল আকার দিয়ে ভাগ করে ২.৫-এর বদলে ০.৪ দেখায়। দুটি সংখ্যাই একই পরিস্থিতি বোঝায়, শুধু উল্টো দিক থেকে।
অনুপাত 1:1-এর নিচে বা ঠিক 1:1 হলে
ফলাফলের আকার মূল ফাইলের চেয়ে বড় হলে অনুপাত 1:1-এর নিচে থাকে। এটি হিসাবের ভুল নয়। এর অর্থ হলো ফাইলের আকার বেড়েছে। 4 MB → 5 MB হলে অনুপাত ০.৮:1। ফাইলটি ১০,০০,০০০ বাইট বড় হয়েছে, যা মূল আকারের হিসাবে 25 % বৃদ্ধি। ক্যালকুলেটর এ ধরনের পরিস্থিতিকে স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি হিসেবে চিহ্নিত করে। সব ফাইল ছোট করা যায় না, আর আবার সেভ করলে আকার বেড়েও যেতে পারে।
আকার একই থাকলে, যেমন 10 MB → 10 MB, ফলাফল হয় 1:1, আকারের সাশ্রয় 0 % এবং অবশিষ্ট আকার 100 %। এর অর্থ শুধু বাইটের সংখ্যা বদলায়নি। কেন বদলায়নি, তা এই দুটি সংখ্যা থেকে জানা যায় না।
আকারের সীমা ধরে উল্টো দিক থেকে পরিকল্পনা করুন
কোনো ফর্ম বা মেইলবক্সে আকারের সীমা থাকলে উল্টো দিক থেকে হিসাব করা কাজে আসে: সীমার মধ্যে আনতে কতটা বাদ দিতে হবে? আকার যতটা কমাতে হবে, তার হিসাব হলো: (1 − সীমা ÷ মূল ফাইল) × 100। মূল আকার ইতিমধ্যে সীমার সমান বা নিচে থাকলে ফলাফল 0 %, কারণ তখন কিছুই কমাতে হবে না।
80 % শুনে স্পষ্ট নির্দেশনা মনে হতে পারে, কিন্তু এটি শুধুই গাণিতিক হিসাব। কোনো নির্দিষ্ট PDF আসলেই এতটা ছোট হবে কি না, তা নির্ভর করে তার ভেতরে কী আছে, যেমন ছবি, স্ক্যান বা প্রধানত লেখা, এবং কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। এই শতাংশ থেকে উপযুক্ত রেজোলিউশন বা মানের স্তর নির্ধারণ করা যায় না। এটি মূলত বোঝায়, লক্ষ্যে পৌঁছানো কতটা কঠিন হতে পারে।
আপনার কাছে ইতিমধ্যে ফলাফল থাকলে, আকার যতটা কমেছে মোডে অতিরিক্তভাবে সীমাও লিখতে পারেন। উদাহরণ: মূল ফাইল 10 MB, ফলাফল 4 MB এবং সীমা 2 MB। তখন 60 % আকারের সাশ্রয়ের পাশাপাশি আকার 80 % কমানোর প্রয়োজন দেখাবে। এ থেকে বোঝা যায়, ফাইলটি এখনও সীমার চেয়ে 2 MB বড়।
সীমা হিসেবে শুধু „10 MB“ লেখা থাকলে, তার অর্থ ১,০০,০০,০০০ নাকি ১,০৪,৮৫,৭৬০ বাইট, তা সব সময় স্পষ্ট হয় না। নিশ্চিত না হলে ছোট মানটি ধরে পরিকল্পনা করুন। আসল নথিতে লক্ষ্যটি অর্জন করা যায় কি না দেখতে নির্দিষ্ট আকারের সীমার জন্য PDF ছোট করুন।
সংকোচনের হার যা মূল্যায়ন করে না
এই হিসাবে ঠিক দুটি সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। তাই উচ্চ হার থেকে বোঝা যায় না, ছোট করা PDF এখনও ভালোভাবে পড়া যায় কি না। লেখা এখনও নির্বাচন ও অনুসন্ধান করা যায় কি না, ফর্মের ঘর ও স্বাক্ষর অক্ষত আছে কি না, কিংবা প্রাপক সহজে ফাইলটি খুলতে পারবেন কি না, তাও এটি বলে না। পরের নথিটি কতটা ছোট হবে, তাও এটি অনুমান করে না। ভিন্ন বিষয়বস্তু বা ভিন্ন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ আলাদা ফল হতে পারে।
তাই সংকুচিত ফাইল পাঠানোর আগে ফলাফল নিজে দেখে নিন:
- সংকুচিত ফাইলটি খুলে স্বাভাবিক জুমে দেখুন, লেখা, সংখ্যা ও চিত্র স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কি না।
- প্রাপকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলে, লেখা নির্বাচন ও অনুসন্ধান করা যায় কি না পরীক্ষা করুন।
- ফর্মের ঘর এবং হাতে লেখা বা স্ক্যান করা স্বাক্ষর এখনও সম্পূর্ণ ও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।
- PDF-এ ডিজিটাল স্বাক্ষর থাকলে উপযুক্ত PDF ভিউয়ারে সেগুলোর যাচাইকরণ অবস্থা দেখুন। পাতায় স্বাক্ষর দেখা গেলেই যে স্বাক্ষর যাচাই সফল হয়েছে, তা বোঝায় না।
- ফাইলের প্রকৃত আকার প্রাপকের সীমার সঙ্গে তুলনা করুন।
আসল ফাইল ছোট করতে PDF সংকুচিত করুন সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারেন। তৈরি হওয়া ফাইল কোনো পোর্টাল বা মেইলবক্সের শর্ত পূরণ করে কি না, তা পরে আপলোডের সীমা যাচাই করুন-এ পরীক্ষা করতে পারেন।